সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংক মুখপাত্র

একসঙ্গে তুলতে গেলে পৃথিবীর কোনো ব্যাংকই টাকা দিতে পারবে না

আতঙ্কিত হয়ে ব্যাংক থেকে টাকা না তোলার জন্য আবারো গ্রাহকদের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দেশের ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির মুখপাত্র হুসনে আরা শিখা বলেছেন, ‘কিছু গ্রাহকের

আতঙ্কিত হয়ে ব্যাংক থেকে টাকা না তোলার জন্য আবারো গ্রাহকদের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দেশের ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির মুখপাত্র হুসনে আরা শিখা বলেছেন, ‘কিছু গ্রাহকের আমানতের টাকা উত্তোলনের প্রয়োজন হচ্ছে না। তবু তারা টাকা তুলতে ব্যাংকে যাচ্ছেন। এতে ওই ব্যাংকগুলোর সাময়িক সমস্যা হচ্ছে। একসঙ্গে তুলতে গেলে পৃথিবীর কোনো ব্যাংকই টাকা দিতে পারবে না।’ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে গতকাল আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

হুসনে আরা শিখা বলেন, ‘ব্যাংকে রাখা আমানতের টাকা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সবাই নিজেদের টাকা ফেরত পাবেন। ব্যাংকগুলোকে ভালো অবস্থানে নিয়ে আসতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপরিকল্পনা রয়েছে। আমানতকারীদের আহ্বান জানাব, আপনারা প্রয়োজনের বেশি টাকা তুলবেন না। আমরা ব্যাংক খাতে আস্থা ফেরাতে চাই। সংকটে থাকা সাতটি ব্যাংককে গত দেড় মাসে ৫ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকার তারল্য সহায়তা দেয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গ্যারান্টির বিপরীতে তারল্য উদ্বৃত্ত থাকা ১০টি ব্যাংক এ টাকা ধার দিয়েছে।’

বর্তমান গভর্নর দায়িত্ব নেয়ার পর দেশের ১১টি বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয়া হয়। ওই ব্যাংকগুলোতেই এখন তারল্য সংকট চলছে। অনিয়ম-দুর্নীতি হওয়ার পরও কিছু ব্যাংকের পর্ষদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুখপাত্র বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১১টি ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দিয়ে নতুন পর্ষদ গঠন করেছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব ব্যাংকের বিষয়েই সিদ্ধান্ত আসবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে সব ব্যাংকে নিরীক্ষা চলছে। এ প্রক্রিয়া শেষে যেসব ব্যাংকে অনিয়ম-দুর্নীতি পাওয়া যাবে, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বাংলাদেশ ব্যাংক স্বপ্রণোদিত হয়ে দেশের কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে রিসিভার কিংবা প্রশাসক বসাবে না বলেও জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ বিষয়ে হুসনে আরা শিখা বলেন, ‘রিসিভার নিয়োগ করতে হলে আদালতের নির্দেশ প্রয়োজন হয়। এখন পর্যন্ত একটি শিল্প গ্রুপে রিসিভার নিয়োগের বিষয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা এসেছে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আইন অনুযায়ী প্রদক্ষেপ নিচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক স্বপ্রণোদিত হয়ে দেশের অন্য কোনো শিল্প গ্রুপ কিংবা প্রতিষ্ঠানে রিসিভার নিয়োগ করবে না।’

দেশ থেকে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) কাজ করছে বলেও জানিয়েছেন হুসনে আরা শিখা। অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘ব্যাংক খাত সংস্কারে টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে, তারা কার্যকর কিছু করছে। একটি টাস্কফোর্স ব্যাংকিং সংস্কারে কাজ করছে। অন্যটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জনবলের দক্ষতা বাড়াতে এবং তৃতীয়টা পাচার করা টাকা ফেরত আনার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশের আইনজীবী, কনসালট্যান্ট নিয়োগের কাজ চলছে।’

আরও